একজন
পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান। অন্যজন বিখ্যাত অলরাউন্ডার। জাভেদ
মিয়াঁদাদ আর শহীদ আফ্রিদির ‘ঝামেলা’ তাই মুখরোচক খবরের জন্ম দিচ্ছে
পাকিস্তানের ক্রিকেটাঙ্গনে। তবে ব্যাপারটা একটু অন্যদিকে মোড় নিয়েছে এ
মুহূর্তে। আফ্রিদিকে হুমকি দিয়েছেন মাফিয়া-সম্রাট দাউদ ইব্রাহিম। দাউদ যে
সম্পর্কে মিয়াঁদাদের বেয়াই, তা কারোরই অজানা নয় ,আফ্রিদি যে কতবার ‘অবসর’ নিয়েছেন, তা বোধহয় তাঁর নিজেরও জানা নেই। গত
মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি
দলকে আর নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছে নেই তাঁর। শুধু সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে দলের
সঙ্গে থাকতে চান তিনি। কিন্তু এখন আফ্রিদির ইচ্ছে, বিদায়ী ম্যাচ খেলে
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের ।আফ্রিদির এই ইচ্ছে নিয়ে ক্ষুব্ধ মিয়াঁদাদ। পাকিস্তান ক্রিকেটের ‘বড়ে
মিয়া’র দাবি, শুধু টাকার লোভেই বিদায়ী ম্যাচ খেলতে চাচ্ছেন ওয়ানডের সাবেক
দ্রুততম শতকের মালিক। শুধু তাই নয়, আফ্রিদির বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর গুরুতর
অভিযোগও এনেছেন তিনি। পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেলকে মিয়াঁদাদ বলেছেন,
‘(পাকিস্তানের কোচ থাকার সময়) আমি নিজের হাতে তাকে ধরেছিলাম। আমার হাতে
আসলে পুরো দলটাই ধরা পড়েছিল। তারা ছিল ম্যাচ ফিক্সার আর সবসময় টাকা নিয়ে
কথা বলত।’আফ্রিদিও ছেড়ে কথা বলেননি। মিয়াঁদাদের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, ‘জাভেদ
মিয়াঁদাদ টাকা ছাড়া কিছুই বুঝতে চান না। সারা জীবন তিনি টাকা নিয়ে চিন্তা
করেছেন আর এখনো করছেন। তাঁর মাপের একজন ক্রিকেটারের এমন সস্তা কথাবার্তা না
বলাই উচিত। ইমরান খানের সঙ্গে মিয়াঁদাদের এখানেই পার্থক্য।’ এমনকি
মিয়াঁদাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এর পরই দাউদ ইব্রাহিমের ‘আসরে’ প্রবেশ। মিয়াঁদাদের ছেলের সঙ্গে দাউদের
মেয়ের বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর আগে। বেয়াইয়ের অপমানে অপরাধ জগতের ‘ডন’ নাকি
ভীষণ ক্ষুব্ধ। ভারতের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের দাবি, গত ১২ অক্টোবর আফ্রিদিকে
ফোনে হুমকি দিয়ে মিয়াঁদাদকে নিয়ে কথা না বলার ‘উপদেশ’ দিয়েছেন দাউদ।
এ সম্পর্কে আফ্রিদি-মিয়াঁদাদ দুজনই আপাতত নিশ্চুপ।
দেখা যাক কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায়!

No comments:
Post a Comment